চলমান শহরতলির পরিচর্যা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের উত্থানের ফলে আমাদের শহরগুলো চুপ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই নিঃশব্দ রাস্তার পেছনে রয়েছে এক অনাবিষ্কৃত দুনিয়া যেখানে শহুরে বন্যপ্রাণীর জীবনযাপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এই পরিবর্তনগুলো।
বর্তমানে বিশ্বের দেশগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সাল নাগাদ বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রির সংখ্যা বিশ্বের মোট গাড়ির বিক্রির ১০% হয়ে উঠেছিল (International Energy Agency)। এই প্রবণতা শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ধাবিত করছে না; এটি শহরের অঙ্গে বন্যপ্রাণীর জীবনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।
শহরের কোণে প্রত্যন্ত জীবজন্তুরা তাদের জীবনযাপন করে, কিন্তু যখন চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তন হতে থাকে তখন তাদের জন্যও সেটা একটা নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, শহরে বড় গাড়ির আওয়াজ কমতে থাকলে বন্যপ্রাণী আরো বেশি সক্রিয় হতে শুরু করে। একটি স্টাডি অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক যানবাহন শহরের পাখিদের গায়েই আক্রান্ত করে, কারণ তারা বাকি বিশ্বে ঘাটতি অনুভব করে (Nature Communications)।
যদিও আমাদের কাছে মনে হতে পারে যে, নীরব রাস্তাগুলো শহুরে জীবজন্তুর জন্য ভালো, কিন্তু বাস্তবে, এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যানবাহনের আওয়াজ কমাতে নিয়ে এসেছে বিভ্রান্তি, বিশেষত পাখিদের ক্ষেত্রে। গবেষকদের মতে, এদের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড নোয়েজ’ থেকে মুক্তি পাওয়ার ফলে তারা গভীর রাতে গান গাইতে শুরু করেছে, যা তাদের অবলম্বনের একটি অংশ।
পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের কারণে আইকনিক রাস্তাগুলোতেই খাদ্যসংস্থান পরিবর্তিত হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, শহরের ছোট পাখিরা এখন নতুন খাদ্যদ্রব্য শিকার করতে সক্ষম হচ্ছেন যা তারা আগে করতে পারতো না। গেল বছর এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোকামাকড় খাওয়ার জন্য নগভিটে একটি নতুন ক্রিয়া মাথা তুলেছে (Ecological Applications)।
বৈদ্যুতিক যানবাহন শহুরে মাংসাশী প্রাণীদেরও প্রভাবিত করছে। অনেক সময়, তারা বেশি নজরে আসে এবং পরিকল্পনাহীনভাবে শিকার করে, যা প্রজাতির জন্য একটি বিরূপ পরিণতি হতে পারে। শহুরে সিংহ এবং চিতার মতো প্রাণীরা অভ্যাস পরিবর্তন করছে, যা যে কোনও সামাজিক কাঠামোকে বিপর্যস্ত করতে পারে।
সরকারী পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বৈদ্যুতিক গাড়ির কারণে পাড়ার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শহরে সিংহ এবং নেকড়ের সংখ্যা বাড়ছে (City Planning Journal)। অর্থাৎ, জনসংখ্যা বাড়ছে বলেই তাদের পরিপূরক খাদ্য সমস্যাকে ফাঁকা করে দিচ্ছে। এটা একটি ত্রাঙ্গম তৈরি করছে; যেটি শহরের প্রাণীজগতের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্ষম।
শহরগুলিতে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার এবং প্রাকৃতিক সংস্থানসমূহকে এই বিষয়ে আরও মনোযোগ দিতে হবে এবং শহরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার গভীরতা বুঝতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, उदाहरणস্বরূপ, বার্লিনে শহুরে জীবজন্তুর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে যাতে তারা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারে (Wildlife Conservation Society)।
বার্লিনের উদাহরণ যদিও বা সুখকর, তা সত্ত্বেও আমাদের শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। শহরের পেজে একটি ডাউনটাউন গ্রিড্লক তৈরির মতো বিভিন্ন আঙ্গিকে বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ সোমবারের মাতাল রাতের চাইতে প্রাণীর চোখের সম্মুখীন হওয়া, আমাদের শহরের জীবনের তুলনায় অনেক জরুরি।
এবার আসুন আমরা একটু হাস্যরসের ছোঁয়া দি। আপনি কি জানেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি শহুরে জীবনকে এক নতুন ধরনের মহাকাব্যিক নাটকের মতো করে ফেলবে? একজন পাখি যদি গাড়ির সামনে এসে জানায়, "দড়ি, আমি আছি," তবে তার বিনীততা আমাদের মনোযোগকে আকৃষ্ট করবে।
ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যেখানে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিগুলি মানবতা ও প্রকৃতির সঠিক সন্তুষ্টি নিয়ে আসবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ফোকাস করা উচিত যাতে শহরের উন্নয়ন বন্যপ্রাণীদের জীবনযাপনকেও গুরুত্ব দেয় এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলে।
নিষ্ক্রিয় চারপাশে যেখানে শহরের জীবন অপ্রতুল ভূমিকা পালন করে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের উপস্থিতি এক নিবিড় কিৎকল্পনায় পরিণত হচ্ছে। শহরের বৈদ্যুতিক গতি নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে চললেও, শহুরে বন্যপ্রাণীর যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে আমরা কেবল পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলই হবো না, বরং আসন্ন প্রজন্মকে একটি সুশৃঙ্খল বাসস্থানও প্রদানের সুযোগ পাবো।