ম্যাকলারেন স্পিডটেইল ২০১৯ সালে লঞ্চ হওয়া সবচেয়ে দারুণ সুপারকারগুলোর একটি। ৮০০ ভি-৮ ইঞ্জিন যার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১০৫০ হর্সপাওয়ার, এই গাড়িটি জগতে ম্যাকলারেনের দ্রুততম রোড কার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এর হালকা অ্যানোডাইজড কার্বন ফাইবার বডি এবং অ্যাডভান্সড এয়ারডাইনামিক্স এটি সবার থেকে আলাদা।
গতিশীলতা এবং স্থিতিশীলতার দিক থেকে, স্পিডটেইল ৩৫০ কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত গতি অর্জন করতে সক্ষম। ম্যাকলারেনের অফিসিয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, গাড়িটির ডিজাইন একেবারে ড্রাইভার-ফোকাসড এবং স্পোর্টস ড্রাইভিংয়ের জন্য একেবারেই উপযুক্ত।
এই সুপারকারটির দাম এবং সীমিত সংস্করণ সব মিলিয়ে এটিকে একটি এক্সক্লুসিভ কালেক্টরস আইটেম বানিয়েছে, যা শুধু রেসিং প্রেমিক নয় বরং প্রযুক্তি বিচক্ষণ কারপ্রেমীদের মন জয় করেছে।
ইতালির পাগানি কোম্পানির হুয়ায়রা রোডস্টার সুপারকারটি ২০১৯ সালে আলোর মুখ দেখেছে। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ৬.০ লিটার ভি-১২ টুইন টার্বো ইঞ্জিনের কম্বিনেশন দিয়ে সুচারুভাবে চালিত এই গাড়িটি ৮১৯ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত পাওয়ার ডেলিভারি করে।
গাড়িটির ওজন খুবই কম এবং এর এ্যারোডাইনামিক্স বিশেষভাবে উন্নত। হুয়ায়রা রোডস্টার একই সাথে দ্রুততা এবং নিয়ন্ত্রণের এক মিশ্রণ যা রোড এবং ট্র্যাক উভয়ের জন্য আদর্শ। এর কাস্টমাইজেশন অপশন বিশ্বমানের এবং প্রত্যেকে এর অনন্যতা স্বীকার করে।
বিশেষজ্ঞরা এই গাড়িটিকে 'মোবাইল আর্ট' হিসেবে বিবেচনা করেন কারণ এর প্রতি এঙ্গেল এবং কার্বন ফাইবারের ব্যবহার একসাথে ব্যাপক প্রযুক্তিগত এবং নান্দনিক মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টার দ্বিতীয় প্রজন্মের সুপারকারটি ২০১৯ সালের পর ঘোষণা করা হলেও এর বাজারে আসা অপেক্ষায় রয়েছে। একদম ভিন্ন ধরণের টেসলা গাড়ি হিসেবে, এটি পুরোপুরি বৈদ্যুতিক সুপারকার যা নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে পারফরম্যান্স এবং দূরত্বের ক্ষেত্রে।
টেসলা দাবি করেছে যে নতুন রোডস্টার ০-১০০ কিমি/ঘণ্টা মাত্র ১.৯ সেকেন্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এছাড়া এই গাড়িটির ব্যাটারি ক্ষমতা এতটাই বেশি হবে যে একক চার্জে এটি ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে।
যদি এই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি বিদ্যুতের বিশ্বে একটি বিপ্লবের শুরু হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রযুক্তিপ্রেমী এবং পরিবেশ সচেতন গাড়িচালকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প।
২০১৯ সালে লঞ্চ হওয়া ফারারি এসএফ৯১ স্ট্রাডালে একটি হাইব্রিড সুপারকার যা উন্নত পারফরম্যান্স এবং টেকনোলজি একসাথে প্রদান করে থাকে। এর ৪.০ লিটার টুইন-টার্বো ভি৮ ইঞ্জিন এবং চারটি ইলেকট্রিক মোটরের যুগ্ম শক্তি মোট ১০০০ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
এই গাড়িটি ২.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা স্পিডে পৌঁছাতে সক্ষম এবং এর সর্বোচ্চ গতি ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা। এর হালকা বডি এবং উন্নত এ্যারোডাইনামিক্স ডিজাইন সুপারকার দেখানোর ক্ষেত্রে ফারারির একটি মাইলফলক।
এছাড়াও ফারারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই গাড়ির প্রতিটি ইউনিট পণ্যটি অত্যন্ত সুক্ষ্ম হাতে তৈরি এবং এটি একটি উচ্চ সফলতা প্রকাশ করে ফারারির দক্ষতা।
লাম্বরগিনির প্রথম হাইব্রিড সুপারকার সিয়ান এফকে-পি ১৩৯৯ ২০১৯ সালের পর বাজারে এসেছে। এই গাড়িটি ৬.৫ লিটার ভি১২ ইঞ্জিন এবং ৩.৭ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ মোটরের সংমিশ্রণে মোট ৮২০ হর্সপাওয়ার উৎপন্ন করে।
আধুনিক সুপারকাপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিয়ান রেকর্ড গতি এবং শক্তিশালী পরিবেশ বান্ধব ক্ষমতা প্রদর্শন করে। লাম্বরগিনি দাবি করে এই গাড়িটি একটি যুগান্তকারী বিদ্যুতায়ন প্রযুক্তি দ্বারা চালিত যা অন্যান্য সুপারকার থেকে এক ধাপ এগিয়ে।
এর লিমিটেড ইডিশন হওয়ার কারণে এটি গ্লোবাল কার কালেক্টর ও অটো এন্তুজিয়াস্টদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন অটোমোবাইল রিভিউতে সিয়ানকে এক অভিনব উদ্ভাবনী কার হিসেবে দেখা হয়।
অ্যাস্টন মার্টিনের ভ্যালহাল্লা সুপারকারটি ২০২০ সালে প্রবর্তিত, যেটি নতুন যুগের হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের মিশ্রণ। এর ৩.০ লিটার টুইন টার্বো ভি৬ ইঞ্জিন এবং ইলেকট্রিক মোটর মিলিয়ে ৯৯৯ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করে।
গাড়িটির হালকা ওজন এবং উন্নত কার্বন ফাইবার ব্যবহার এটিকে অন্যান্য স্পোর্টস কার থেকে আলাদা করে তুলেছে। ভ্যালহাল্লা সর্বোচ্চ ৩২৬ কিমি/ঘণ্টা গতি অর্জন সক্ষম ও এক আধুনিক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
বিশ্লেষকরা এই গাড়িটিকে অ্যাস্টন মার্টিনের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও নকশার একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেন, যা ব্র্যান্ডের পুরনো ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিক যুগের প্রতীক।
ক্রোয়েশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত রিমাক কোম্পানির নেভারা সুপার ইলেকট্রিক কার ২০১৯ সালের পর বাজারে প্রবেশ করেছে। এর চারটি ইলেকট্রিক মোটর মিলিয়ে ১৯২০ হর্সপাওয়ার সর্বোচ্চ শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ইলেকট্রিক সুপারকারগুলির মধ্যে একটি बनায়।
নেভারা ০-১০০ কিমি/ঘণ্টার গতি মাত্র ১.৯ সেকেন্ডে পৌঁছায় এবং সর্বোচ্চ গতি ৪১৫ কিমি/ঘণ্টা, যা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য অসাধারণ। এটি রিমাকের উন্নত ব্যাটারি এবং চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বও সাশ্রয়ী।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ম্যাগাজিন যেমন Car and Driver এবং Top Gear এর পর্যালোচনা অনুযায়ী, নেভারা উচ্চ প্রযুক্তি এবং পারফরম্যান্সের চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।