প্রাচীন গাড়ির রঙের গঠন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বর্তমানের তুলনায়। মূলত, লোহা এবং কাঠের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত হত কপার, লবণ, এবং প্রাকৃতিক রঞ্জক। এগুলো ফার্মুলেশন ছিল হাতে তৈরি এবং প্রাকৃতিক উপাদানের নির্ভর।
সেই সময়ের পেইন্ট সাধারণত ছিল ওয়াটারবেসড বা সিঙ্কেড রঞ্জক, যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম পলিউটিং এবং পরিবেশ বান্ধব। এর ফলে গাড়ির রঙে প্রাকৃতিক টেক্সচার এবং দীপ্তি ফুটিয়ে তোলে।
অনুসন্ধান প্রমাণ করেছে যে ফ্যাব্রিকেশন করতে সাধারণত ম্যাগনেসিয়া, টাইটানিয়া এবং কার্বন ব্ল্যাক ব্যবহৃত হত যা রঙের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করত (Smith, 1985)।
২০শ শতকের প্রথমার্ধে গাড়ির পেইন্টিংয়ে লেকার প্রযুক্তির প্রচলন ঘটে, যা অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং দীপ্যমান ফিনিশ দেয়। লেকার ছিল থিনার এবং রেজিন ভিত্তিক যা দ্রুত শুকিয়ে গাড়ির পৃষ্ঠে মসৃণ পরত তৈরি করত।
এই প্রযুক্তি কেমিক্যাল রিপ্যাকশন করে গাড়ির রঙকে জীবন্ত রাখা সম্ভব করেছিল। লেকারের রং ছিল গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী যা আজও অনুরাগীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সেই সময়ের কারখানাগুলি সেলুলোজ লেকার পেইন্ট ব্যবহার করত যেটি ছিল হালকা এবং নমনীয়, কিন্তু বেশি আবহাওয়ায় ফাটা এবং পচে যাওয়ার প্রবণতা ছিল (Johnson & Lee, 1992)।
বিষয়টি ছিল অত্যন্ত রহস্যময় কারণ প্রাচীন রঞ্জক তৈরি করতেন স্থানীয় কৃষক ও কারিগররা। উদ্ভাসিত রঙের জন্য তারা ব্যবহার করতেন ইন্দিগো, ওক্রা, এবং মাঝারি লৌহ যৌগ।
এইসব রঞ্জক গুলোর মুল রসায়ন ছিল ধাতব অক্সাইড দ্বারা গঠিত যা রঙের স্থায়িত্ব এবং আর্দ্রতা সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
গবেষণা দেখিয়েছে যে এই প্রাকৃতিক রঞ্জক শুধুমাত্র পরিবেশ বান্ধবই নয়, তা সময়ের সাথে কালচে ও ম্লান হওয়ার পরিবর্তে একটি অনন্য প্যাটিনা তৈরি করে (Miller, 2001)।
প্রাচীন কালে গাড়ির রঙকে জীবন্ত রাখতে ব্যবহার করা হতো বিভিন্ন প্রকার গ্লস ফিনিশিং। এতে প্রাকৃতিক মোম এবং ল্যাক ব্যবহার ছিল প্রধান।
এগুলো রঙকে একটি মসৃণ, চকচকে এবং আয়না সদৃশ পৃষ্ঠ সঞ্চয় করত যা আলো প্রতিফলিত করে গাড়ির সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করত।
এই প্রক্রিয়াটি হাতে করা হত এবং গাড়ির প্রান্তগুলি বিশেষ যত্ন নেওয়া হতো যাতে রঙের স্থায়িত্ব বেশি হয় (Clarkson, 1978)।
একটি মূল গোপনীয়তা ছিল রঙের স্থায়িত্ব বজায় রাখা। সমস্ত রংয়ের মূল উপাদান ছিল লেপ যা অক্সিজেন এবং আর্দ্রতার থেকে রক্ষা করত।
সাধারণত ইউরেথেন বেসড হতো গাড়ির রঙের ওপর লেপ, যা রাসায়নিক বিক্রিয়াকে কমান এবং আবহাওয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা।
দীর্ঘস্থায়ী রঙের জন্য নিয়মিত পলিশ এবং মেরামতের প্রয়োজন হত, যা শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করত (Thompson, 1983)।
অক্সিডেশন এবং ইউভি বিকিরণ গাড়ির রঙের প্রধান শত্রু ছিল। পুরানো রঙের পেইন্টে প্রাকৃতিক এবং রাসায়নিক ফিল্টার মিশ্রিত হতো যা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করত।
এই ফিল্টার গাড়ির রঙে লেপ হিসাবে কাজ করে সূর্যের রশ্মি থেকে রক্ষা করত এবং কালচে হওয়া থামাত।
কারিগররা প্রাকৃতিক শোণিত (rosin) এবং সালফার যৌগ ব্যবহার করতেন যাতে রঙের নিষ্কৃতি বজায় থাকে (Evans, 1990)।
১৯৫০’র দশকে মেটালিক ফিনিশ পৌঁছায় তার শিখরে। ছোট ছোট ধাতব কণা মিশিয়ে রঙকে চকচকে এবং গভীরতা দেওয়া হত।
প্রাচীন গাড়িতে ব্যবহার করা হত অ্যালুমিনিয়াম ফ্লেক্স এবং গ্লাস ফ্লেক্স যা আলোর প্রতিফলনে বিশেষ প্রভাব ফেলত।
এই টেকনিকের ফলে গাড়ির রঙের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হত এবং গাড়ি দেখতে বিলাসবহুল মনে হতো (Roberts, 1974)।
বিগতকালে গাড়ির রং হাত থেকে স্প্রে করা হত। এই পদ্ধতি শিল্পীর দক্ষতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করত।
কেউ কেউ বিশেষ ব্রাশ ব্যবহার করতো ব্যতিক্রমী প্যাটার্ন তৈরি করতে, যা প্রতিটি গাড়িকে আলাদা করে তোলে।
এখনকার মতো স্বয়ংক্রিয় মেশিনের অভাব থাকায় শিল্পীরা পেইন্টের টেক্সচার এবং গভীরতার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতেন (Morris, 1988)।
প্রাচীন পেইন্টিং প্রক্রিয়ায় ফিক্সেটিভ ব্যবহার করে রঙ সুরক্ষা করা হত। এই পদার্থ রঙাবলীকে স্থির করে ও ঝটপট শুকিয়ে গাড়ির রঙ গাঢ় ও উজ্জ্বল রাখত।
১৯৬০-এর পর সিনথেটিক রং যেমন এনামেল জনপ্রিয় হয়, যার ফলে রঙের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান বেড়ে যায়।
এই রংয়ের কেমিক্যাল কাঠামো রঙের বিকৃতির হার কমিয়ে আনার কারণে গাড়ির রঙ দীর্ঘদিন নতুনের মত দেখতে থাকে (Turner & Hall, 1971)।
প্রাচীন গাড়ির রঙ দীর্ঘস্থায়ী রাখার জন্য পণ্যটি নিয়মিত পরিষ্কার এবং পলিশের প্রয়োজন হয়। এতে সানস্ক্রীন সামগ্রী ও প্রাকৃতিক মোম ব্যবহার করা হত।
যখন রঙ ক্ষয়প্রাপ্ত হত, তখন পেশাদার কাঁচামাল দিয়ে পুনঃরঞ্জন করা হত যাতে মূল রঙের জৌলুস বজায় থাকে।
এই খুঁটিনাটি যত্নই ছিল প্রাচীন গাড়ির রঙের দীর্ঘায়ু এবং ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি (Walker, 1995)।